পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় ‘কালাইয়া-দাসপাড়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দিয়েছে স্থানীয় এক চাঁদাবাজ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার বার দ্বিতীয় দফায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাকেও ডেকে নিয়ে দেশীয় ধারালো ছুরি বের করে তাকেও হত্যার হুমকি দেয় ওই চাঁদাবাজ।
একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে ওই চাঁদাবাজ পালিয়ে যায়। পরে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করে। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া ধর্মঘট চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত।
ধর্মঘটের খবর পেয়ে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নেওয়ার আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।
দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন প্যাদার (৫৫) ছেলে মো. শান্ত প্যাদাসহ (২২)কয়েকজন নিয়মিত চাঁদা নিতেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালাইয়া ধান হাট সেতু-সংলগ্ন পশ্চিম পাশে দাসপাড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় ৩২ জন ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে। তাদের রয়েছে দাসপাড়া-কালাইয়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতি। তাদের ভাষ্যমতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলার ও কার্গোতে করে রড, সিমেন্ট, বালু, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী এনে ব্যবসা করেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ টি ট্রলার ও কার্গো এখানে আসে। প্রত্যেক ট্রলার ও কার্গো বাবদ ব্যবসায়ীদের এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে জরুরী সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা আর চাঁদা দিবেন না। এতে ক্ষুব্ধ হন শান্ত প্যাদা। গত বৃহস্পতিবার সকালে শান্ত চাঁদা নিতে আসলে সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন তাকে (মোস্তাফিজুর রহমান) প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেন শান্ত। এ ঘটনায়তে আরও ক্ষুব্দ হন শান্ত।
সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,‘শান্তর কাছে সব সময় অস্ত্রো থাকে। এ কারণে ভয়ের মধ্যে আছি।’ দ্রæত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে শান্তর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তার বাবা বিএনপি নেতা সোহরাব হোসেন প্যাদা বলেন, দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকায় জলমহল কিনেছেন। এ কারণে তার ছেলে শান্ত ট্রলার প্রতি দুইশ টাকা করে নেয়। এটা কোনো চাঁদাবাজি নয়।
উপজেলা ভমি কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালাইয়া ও দাসপাড়া খাল জলমহল হিসেবে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আলী আজমের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর বলেন,‘সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন