মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও ১০ দিনের জন্য—অর্থাৎ ৬ এপ্রিল পর্যন্ত—স্থগিত করবেন। তিনি আরও দাবি করছেন যে, শান্তি চুক্তির জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা খুব ভালোভাবে চলছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার নিশ্চিত করেছেন যে, যুদ্ধ শেষ করার মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে এবং তুরস্ক ও মিশর এতে সমর্থন দিচ্ছে। ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফরিয়ান আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তার দেশে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১,১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর, ইসরায়েল জাহরানি নদীর দক্ষিণে বসবাসকারী লেবাননের সকল বাসিন্দাকে বাস্তুচ্যুতির আদেশ জারি করেছে। এই নদীটি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) দূরে অবস্থিত। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জ্বালানি সংকট তৈরি করায় ভারত রুশ গ্যাসের দিকে নজর দিচ্ছে অনেক দেশ। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধের ফলে দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করায় ভারত নতুন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, এবং নয়াদিল্লি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) জন্য রাশিয়ার দিকে পুনরায় ঝুঁকছে। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, উভয় দেশের কর্মকর্তারা সরাসরি এলএনজি বিক্রি পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিতে সম্মত হয়েছেন, যা সম্ভবত ভারতের জ্বালানি কৌশলে একটি বড় পরিবর্তন আনবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর জন্য ভারতের পূর্ববর্তী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। রাশিয়া ও ভারতের জ্বালানি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনায় অপরিশোধিত তেল চালান বাড়ানোর পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা শীঘ্রই ভারতের মোট আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হতে পারে। এই প্রচেষ্টাটি প্রধান অর্থনীতিগুলোর ওপর জ্বালানি সুরক্ষিত করার ক্রমবর্ধমান চাপকে প্রতিফলিত করে, কারণ যুদ্ধ সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করছে এবং বিশ্ববাজারকে সংকুচিত করছে। চলমান ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ‘দায়মুক্ত নৃশংস অপরাধের’ নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্যে স্কুলের ওপর এই বর্বর হামলাটি একটি বিশাল হিমশৈলের দৃশ্যমান চূড়া মাত্র, যার গভীরে আরও গুরুতর বিপর্যয় লুকিয়ে আছে। আর তা হলো মানবাধিকার ও মানবিক আইনের সবচেয়ে জঘন্য লঙ্ঘনগুলোকে স্বাভাবিক করে তোলা এবং দায়মুক্ত নৃশংস অপরাধ করার দুঃসাহস। শাজারেহ তাইয়েবেহ বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা একটি যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ – যার জন্য সকলের দ্ব্যর্থহীন নিন্দা এবং অপরাধীদের সুস্পষ্ট জবাবদিহিতা দাবি করে। মিনাবের ওই স্কুলের ওপর হামলাটি কোনো সাধারণ ঘটনা বা ভুল হিসাব ছিল না। তাদের অপরাধকে ন্যায্যতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য কোনোভাবেই তাদের দায়বদ্ধতা লুকাতে পারবে না। তারা যুদ্ধের আইন এবং মানবিকতা ও সভ্যতার মৌলিক নীতির প্রতি কোনো তোয়াক্কা না করে বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ইরান জুড়ে ৬০০-র বেশি স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ফলে ১,০০০-র বেশি ছাত্র ও শিক্ষক শহীদ বা আহত হয়েছেন। ১৬ মিনিট আগে (০৮:৫৫ জিএমটি) হুথি, রিয়াদের দিকে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ এলাকার দিকে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং বাকি চারটি জনবসতিহীন এলাকা বা উপসাগরের জলে পড়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মিনাবের স্কুল হামলা নিয়ে জাতিসংঘে ভাষণ দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিনাবের একটি স্কুলে ইসরায়েল-মার্কিন হামলায় ১৭৫ জন শিশু ও শিক্ষক নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরান, চীন ও কিউবার ডাকা জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের এক জরুরি অধিবেশনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বক্তব্য রাখেন। তাঁর ভাষণ থেকে কিছু মন্তব্য নিচে দেওয়া হলো: ইরান দুটি আগ্রাসী পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া এক অবৈধ যুদ্ধের সম্মুখীন। এই আগ্রাসী যুদ্ধ নির্লজ্জভাবে অযৌক্তিক ও নৃশংস। তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি এই আগ্রাসন শুরু করে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকানদের কথিত উদ্বেগ নিরসনে একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত ছিল। আলোচনার টেবিল ডুবিয়ে দিয়ে তারা নয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এই আগ্রাসনের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপগুলোর মধ্যে একটি ছিল দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ নামক একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিকল্পিত ও পর্যায়ক্রমিক হামলা, যেখানে ১৭৫ জনেরও বেশি ছাত্রী ও শিক্ষককে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন