জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা সংস্থা World Food Programme (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য, পুষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করেছে। সংস্থাটির মার্চ ২০২৬-এর কান্ট্রি ব্রিফ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে ১.১৪ মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মাসিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৮ হাজারের বেশি ভাসান চরে বসবাস করছেন।
ফেব্রুয়ারির ১১, ১৩ ও ১৭ তারিখে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৪৯ জন মানুষের মাঝে জরুরি সহায়তা হিসেবে ২৭৫ কেজি পুষ্টিবর্ধিত বিস্কুট ও ১,৮১৭ প্যাকেট গরম খাবার বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কার্যক্রমের আওতায় হাজার হাজার শিশু ও গর্ভবতী-স্তন্যদায়ী নারীকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিচালিত স্ক্রিনিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে ৪,৫০০ জন অপুষ্টিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে।
শিক্ষা খাতে ডব্লিউএফপি’র কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কক্সবাজার ও ভাসান চরের ৪,২২১টি শিক্ষাকেন্দ্রে প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর মধ্যে ১৫৫ মেট্রিক টনের বেশি পুষ্টিবর্ধক বিস্কুট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া United States Department of Agriculture (ইউএসডিএ)-এর সহায়তায় হবিগঞ্জ জেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে, যার ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা খাতে ডব্লিউএফপি সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে ১.৬ মিলিয়ন মা ও শিশুর জন্য ভাতা কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করেছে। পাশাপাশি ১৬১টি উপজেলায় ২৪ লাখ মানুষের মধ্যে পুষ্টিবর্ধিত চাল বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে জীবিকা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে World Bank-এর অর্থায়নে যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি উন্নয়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন