পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর সদর উপজেলাধীন মাদারবুনিয়া ইউনিয়নে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে ফতুল্লা বাজারে পাশে আ: মজিদ সিকদারের রেকর্ডিয় মালিকানাধীন ভোগদখলীয় জমি জে.এল নং- ৭৫, পক্ষীয়া মৌজা, এস,এ খতিয়ান নং-৫০ এ ৯৩ কাঠা জমি। আ: মজিদ সিকদারের লোকান্তরে ওয়ারিশ সূত্রে উক্ত জমির মালিক তার দুই স্ত্রী, আট মেয়ে ও এক ছেলে। তারা উক্ত জমি দীর্ঘ দিন ভোগ দখল করে আসছেন। ভোগদখলীয় জমির মধ্যে ১২৭৬ দাগে ফতুল্লা বাজারের পশ্চিম পাশে তাদের নির্মিত টিনের দোকান ঘর যা তারা ভাড়া দিয়ে আসছেন। কিন্তু উক্ত জমির মূল্য বেশি হওয়ায় তাদের বংশের মোঃ মিলন সিকদার গং ক্ষমতার দাপটে আ: মজিদ সিকদার এর ওয়ারিশদের ভাড়া দেওয়া টিন সেড দোকান ঘর থেকে তাদের ভাড়াটিয়া নুর আলম হাওলাদার ও মিজান বয়াতিকে দোকান থেকে জোর পূর্বক বের করে দেয় এবং তাদের মালামাল নস্ট করে। উক্ত টিনসেড দোকান ঘর ভেঙে ফেলে এবং সেখানে গায়ের জোরে ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে পাকা দোকান ঘর নির্মান কাজ চালায়। তখন জমির প্রকৃত রেকর্ডিয় ও ভোগদখলীয় মালিক মৃত আ: মজিদ সিকদারের ওয়ারিশগণ বাধা প্রদান করলে প্রতিপক্ষের মিলন সিকদার গং দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তাদেরকে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ হামলায় শোনে আলী সিকদার(৩৯) ও মুন্ন (২৬) গুরুতর আহত এবং শুভও আহত হন। এ ঘটনাটি ঘটে ১৬.০৫.২৬ তারিখ। এ হামলার ঘটনায় মৃত আঃ মজিদ সিকদারের মেয়ে মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে মিলন সিকদার(২৬) পিতা- মৃত জব্বার সিকদার, মোঃ নজির গাজী (৩৫) পিতা-মোঃ রতন গাজী, মোঃ তিতাই সিকদার (৪৫) পিতা-মৃত এমদাদুল হক সিকদার, মোঃ মোশারেফ সিকদার (৪৫) পিতা- মৃত মনু সিকদার, মোঃ রাসেল গাজী (৩৩) পিতা-মৃত মুনসুর গাজী, মোঃ বাদল হাং (৪৫) পিতা নুর ইসলাম হং, মোঃ রতন গাজী (৪৮) পিতা মৃত চান গাজী, মো: রাকিব (২৬) পিতা মোঃ রতন গাজী, মোঃ মোজাম্মেল গাজী(৫০) পিতা মৃত চান গাজী, মোঃ কাওসার গাহী(৩২) পিতা মোঃ নয়া গাজী, মোঃ সোহরাব চৌকিদার(৪৮) পিতা মৃত শরীফ আলী চৌকিদার, মোঃ ইলিয়াস হাওলাদার(২৩) পিতা মোঃ রহিম হাওলাদার সহ অজ্ঞাত ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ৪৪। এছাড়া জমি বিরোধ নিয়ে আদালতেও মামলা চলমাম আছে।
এ বিষয়ে মিলন সিকদার গং দের সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরাসরি জানতে চাইলে তারা ক্যামেরার সামনে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হম নাই। কিন্তু তারা মৌখক ভাবে জানান, আদালত থেকে তাদেরকে ঘর সংস্কার করার আদেশ দিয়েছে। সে আদেশের বলে তারা কাজ করছে।
কিন্তু আঃ মজিদ সিকদারের ওয়ারিস কন্যা মাকসুদা, মাহফুজা, লাভু, স্ত্রী সাফিয়া বেগম এবং ছেলে শোনে আলী সিকদার জানান, এখানে আমাদে দীর্ঘদিনে ভোগদখলীয় টিনের দোকানঘর ছিল। বহু বছর ধরে আমরা সে দোকানঘর ভাড়া দিয়ে আসছি। আমাদের ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র ও কারেন্টের মিটারের কাগজ আছে। আদালতকে ওরা দোকান ঘরকে বসতঘর বলে ভুল বুঝিয়ে একটি আদেশ নিয়ে তারা এখানে ভারাটে লোকজন নিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছে। আমাদের জায়গায় আমাদে যেতে দিচ্ছে না। তারা অসংখ্য বাড়াটে লোকজন নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানে আদালত তাদেরকে বলছে সুধু আগের যে স্থাপনা ছিল সে স্থাপনার উপরের টিনের চাল সংস্কার করতে। কিন্তু তারা সেই টিনের দোকান ঘরকে সেমি পাকা ঘর বলে আদালতে উপস্থাপন করেছে।
তারা একটি স্থানীয় শালিসির নামে আমাদের কাছ থেকে ব্লাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের মন মতো স্ট্যাম্পে লিখিয়ে নিয়েছে। যে বিষয়ে শালিসদারেরা বলেছেন এ শালিসির মাধ্যমে যে রোয়েদাদ দেয়া হয়েছে তা বাতিল করা হয়েছে। এবং সালিশিতে যে সার্ভেয়ার ছিল সেও বলেছেন ওখানে রোয়েদাদ নামায় জমির পরিমাপ ভুল আছে। এখন তারা আমাদের আওয়ামীলীগের মিথ্যা ট্যাগ দিয়ে জোর পূর্বক আমাদের ভালো পজিশনের জমি দখল করতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছে। আওয়ামীগের কোন কমিটিতে আমাদের কোন নাম গন্ধ পর্যন্ত নাই। কিন্তু ওরা আওয়ামীলীগের মনির খার সাথে ছিল। এখন ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপি সেজেছে।
আমরা আইনের কাছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর কাছে আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি উদ্ধার করার জন্য সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। আমরা এখন অসহায়। আমাদের ঘটনা সত্যি স্থানীয়দের কাছে জিজ্ঞেস করলে জানা যাবে।##
মন্তব্য করুন