১৯৭৯ সালের ২৪ মার্চ মুম্বাইয়ে জন্ম ইমরান হাশমির। চলচ্চিত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা ছিল পারিবারিক মায়ের দিক থেকে তিনি ভাট পরিবারের সদস্য। প্রযোজক-পরিচালক মহেশ ভাট ও মুকেশ ভাট তাঁর আত্মীয়, সেই সূত্রে ছোটবেলা থেকেই সিনেমার পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় গড়ে ওঠে। তবে এই সম্পর্ক তাঁকে সুযোগ এনে দিলেও, নিজস্ব পরিচয় তৈরি করার লড়াইটা ছিল পুরোপুরি তাঁর নিজের।একসময় বলিউডে তাঁর নাম মানেই ছিল বিতর্ক, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য আর ‘সিরিয়াল কিসার’ তকমা। সেই ইমরান হাশমি আজ ৪৭-এ পা রেখে দাঁড়িয়ে আছেন এক ভিন্ন পরিচয়ে একজন পরিণত, চরিত্রনির্ভর অভিনেতা হিসেবে। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তাঁর এই দীর্ঘ, বহুমাত্রিক পথচলা যেখানে আছে সাহসী সিদ্ধান্ত, ব্যক্তিগত সংগ্রাম, ইমেজ ভাঙার লড়াই আর নতুন করে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প।বলিউডে আসার আগে ইমরান বেশ কিছু ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে বিক্রম ভাটের ‘রাজ’ ছবিতে সহকারী হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। এ অভিজ্ঞতাই তাঁকে ক্যামেরার পেছন থেকে সামনে আসার আত্মবিশ্বাস দেয়।
২০০৩ সালে বিক্রম ভাট পরিচালিত ‘ফুটপাথ’ ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিষেক। ছবিতে অজয় দেবগন ও বিপাশা বসুর মতো তারকার সঙ্গে কাজ করলেও বক্স অফিসে ছবিটি বড় সাফল্য পায়নি। তবে ইমরানের অভিনয় নজর কাড়ে নির্মাতাদের।
এর ঠিক এক বছর পর, ২০০৪ সালে মুক্তি পায় অনুরাগ বসু পরিচালিত ‘মার্ডার’। এ ছবিই বদলে দেয় ইমরানের ক্যারিয়ারের গতিপথ। মল্লিকা শেরাওয়াতের সঙ্গে তাঁর রসায়ন, সাহসী দৃশ্য ও সংগীত সব মিলিয়ে ছবিটি হয়ে ওঠে তুমুল আলোচিত ও বাণিজ্যিকভাবে সফল।চুম্বনের ইমেজ!বলিউডে ইমরান হাশমির নাম উচ্চারণ হলেই ভেসে ওঠে ‘মার্ডার’, ‘জান্নাত’, ‘রাজ থ্রি’ আর সেই সঙ্গে তাঁর বিখ্যাত চুম্বন দৃশ্য। নব্বইয়ের দশকের পর বলিউডে যখন রোমান্টিকতার ভাষা বদলাচ্ছিল, তখন ইমরান যেন সেই পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর এই সাহসী পর্দা-ইমেজ দর্শকের কাছে যেমন জনপ্রিয়তা এনে দেয়, তেমনি ব্যক্তিজীবনে তৈরি করে মজার কিছু পরিস্থিতিও। এক সাক্ষাৎকারে ইমরান হাশমি নিজেই স্বীকার করেছিলেন, তাঁর স্ত্রী পারভীন শাহানি পর্দায় তাঁর চুম্বনের দৃশ্য মোটেই সহজভাবে নিতে পারতেন না। হাসতে হাসতেই বলেছিলেন, ‘এখন আর খুব একটা মারে না। আগে তো ব্যাগ দিয়ে পেটাত!’—এই এক মন্তব্যই যেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের এক অনন্য, মানবিক দিক সামনে নিয়ে আসে।