পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীতে বায়নাচুক্তি করেই জমির সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না করে পাকা ঘর ও রাস্তা নির্মাণে বাধা দিতে গেলে জমির মালিক পক্ষকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী পৌরসভাধীন ০৪নং ওয়ার্ডস্থ পূর্ব আরামবাগে। জমির তফসিল মৌজা-পটুয়াখালী, জে এল নং- ৩৮ এর মধ্যে হাল এস.এ ৩৮ নং- খতিয়ানের জমা খারিজ এস.এ ৪০৭৫ নং খতিয়ানের দাগ নং- ৪৮২১, মোট জমি ৩ শতাংশ।এ ঘটনার বিচার এবং বায়না চুক্তিপত্র বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন জমির মালিক মমতাজ বেগমের (৭০) মেয়ে মরিয়ম বেগম। যার মামলা নং- CR- 141/26 মামলার বিবাদীরা হলেন- বাউফল উপজেলার মধনপুর নিবাসী আবুল বারেক মৃধার ছেলে মোঃ হাসান (৪৪), পটুয়াখালী পৌরসভাধীন ৪ নং ওয়ার্ডস্থ পূর্ব আরামবাগ নিবাসী সালাউদ্দিনের ছেলে সকের(৪০) সহ অজ্ঞাত ৪/৫জন।মামলা ও ভুক্তভোগিদের ভাষ্য মতে জানাযায়, মমতাজ বেগম (৭০) এর পটুয়াখালী পৌরসভাধীন ৪ নং ওয়ার্ডে পূর্ব আরামবাগে কবলা সূত্রে মালিকানাধীন ৩ শতাংশ জমি প্রয়োজনে বিক্রির প্রস্তাব করিলে দশমিনা উপজেলা খাদ্য গুদামের নৈশ প্রহরী বাউলফ উপজেলার মদনপুর গ্রামের মোঃ হাসান (৪৪), মামলার ২নং আসামীর মধ্যস্থতায় সর্বোচ্চ বাজার যাচাই মূল্য ১৫ লক্ষ টাকা ধার্য্য করে ৮ লক্ষ টাকা নগদ প্রদান করে বিগত ইং ২৭.০৮.২০২৫ তারিখ রেজিস্ট্রি বায়নাপত্র দলিল করে এবং কথা থাকে আগামী ইং ৩০.১১.২০২৫ তারিখের মধ্যে বাকী ৭ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে সাফ কবলা রেজিস্ট্রি করে নিবে। পরবর্তীতে ১নং আসামী ২নং আসামীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে এবং কু-পরামর্শে বাকী টাকা পরিশোধ না করে জমি রেজিস্ট্রি না করে জোরপূর্বক উক্ত সম্পত্তিতে বিল্ডিং এর কাজ শুরু করলে মামলার বাদীর মা ১নং সাক্ষী আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন যে, জমি রেজিস্ট্রি না করেন এবং আমার পাওনা বাকী ৭ লক্ষ টাকা পরিশোধ না করে কিভাবে আমার সম্পত্তিতে বিল্ডিং এর কাজ শুরু করছেন। তখন আসামীরা ক্ষিপ্ত ও উত্তেজিত হয়ে বাদীর মা জমির মালিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে ১নং সাক্ষী আমার মা আসামীদেরকে তখন সে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ১ ও ২ নং আসামী তাকে এলোপাথারী কিল ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। তখন জমির মালিক মমতাজ বেগমের ডাক চিৎকার শুনে বিবাদীদের হাত থেকে মামলার বাদী তার মাকে রক্ষা করতে আসলে তাকেও আসামীরা এলোপাথারীভাবে চর থাপ্পর ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে কাপড় চোপড় টানা হেচড়া করে লজ্জাশ্লীতা হানি ঘটায়। এসময় বিবাদীরা তার গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের স্বর্নের চেইন যার মূল্য অনুমান ২,৪০,০০০/- টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়, তফসিল সম্পত্তিতে জন্মানো ১টি ফলনযুক্ত নারিকেল গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলে এবং ১টি পাকের ঘর গোসলখানা বাথরুম কুপিয়ে পিটাইয়া ভাঙ্গিয়া ও পানির লাইন ছুটাইয়া ফালাইয়া সর্বমোট ২ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। বাদী পক্ষের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে বিবাদীরা সহ অজ্ঞাতনামা কতিপয় লোক তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দাবী পক্ষ একটু সুস্থ্য হয়ে ১৬.০১.২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ৪ টার সময় পটুয়াখালী সদর থানায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানালে থানা কর্তৃপক্ষ ঘটনার বিস্তারিত শুনে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। বিবাদীরা আপোষ মিমাংসা করার কথা বলে পরবর্তীতে আপোষ ফয়সালা না হওয়ায় আদালতে মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী বাদী পক্ষ বিজ্ঞ আদালতের কাছে বিবাদীদের গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা সহ বায়না চুক্তিপত্র বাতিল করে সু-বিচার দাবী করেন।##
মন্তব্য করুন