ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার এক ব্যাপক হামলার ফলে বুধবার ভোরে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানান। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, এর আগের প্রাণঘাতী হামলার ঢেউ সম্পর্কে কিয়েভের মিত্রদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া কিয়েভ ও খারকিভ লক্ষ্য করে ১২০টিরও বেশি ড্রোন ও ৩৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং সুনির্দিষ্টভাবে জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর ফলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোর “উল্লেখযোগ্য ক্ষতি” হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এগুলো ঠিক সেই অবকাঠামো যার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি “যুদ্ধবিরতি” ঘোষণা করেছিলেন—যা ছিল গত সপ্তাহান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত “জ্বালানি বিষয়ক যুদ্ধবিরতি”। রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে তারা রাতভর ৯০২টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি বলেছিলেন যে, মঙ্গলবার কিয়েভের একটি প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রাণঘাতী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার এবং একটি আবাসিক ভবনের ক্ষতি করার আগে তার সরকার “মিত্রদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা” পায়নি। তিনি বলেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে তখনই শনাক্ত করতে পেরেছিল যখন সেগুলো প্রায় কিয়েভের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।” “এটি একেবারেই অন্যায্য: যখন তারা (রাশিয়া) আমাদের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করছে, তখন ইউক্রেন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ সম্পর্কে কোনো আগাম সতর্কবার্তাও পাচ্ছে না।” বুধবার ইউক্রেনের কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সামনে মানুষ জড়ো হয়েছে। বুধবার ইউক্রেনের কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সামনে মানুষ জড়ো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রদের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ইউক্রেনকে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় সহায়তা করে; এর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী যন্ত্রের অবস্থান এবং হামলাটি কোথায় ও কখন আঘাত হানতে যাচ্ছে—সেই সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের সতর্ক করেছিল যে, কিয়েভ যদি রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর গভীর হামলা বন্ধ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং ইউক্রেনের জন্য ইউরোপের মার্কিন অস্ত্র কেনা স্থগিত করতে পারে। তবে মঙ্গলবার এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সাথে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করেনি। “আমরা তাদের সহায়তা করছি এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করছি। আমরা চাই যুদ্ধের অবসান ঘটুক; তাই যুদ্ধ থামাতে আমরা তাদের এবং রাশিয়ার সাথে কাজ করছি,” তিনি বলেন। এই তথ্য আদান-প্রদান কোনো সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কিয়েভে আঘাত হানতে সক্ষম, ফলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খুব কম সময় পাওয়া যায়; এমনকি সাম্প্রতিক কিছু হামলায় প্রথম বিস্ফোরণের ঠিক সময়েই বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বেজে উঠেছিল। কয়েক মাস ধরেই জেলেনস্কি তার মিত্রদের কাছে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে তিনি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের ওপর জোর দিচ্ছেন—কারণ শব্দের চেয়েও দ্রুতগামী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হাতেগোনা কয়েকটি অস্ত্রের মধ্যে এটি অন্যতম। বুধবার কিয়েভে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থানে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন ইউক্রেনীয় উদ্ধারকর্মীরা। বুধবার কিয়েভে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থানে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন ইউক্রেনীয় উদ্ধারকর্মীরা। ট্রাম্প রবিবার তথাকথিত ‘জ্বালানি-বিষয়ক যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা যুদ্ধরত উভয় দেশকেই অনেকটা অবাক করেছিল। এরপর জেলেনস্কি জানান যে, আগে থেকে এ বিষয়ে জানা না থাকলেও তিনি এই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করেন। তবে ক্রেমলিন এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। সোমবারের মধ্যেই জেলেনস্কি অভিযোগ করেন যে, নতুন করে হামলা চালিয়ে রাশিয়া সেই কথিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে—তবে তিনি এ-ও বলেন যে, মস্কো যদি চুক্তি মেনে চলে, তবে তিনিও তা মেনে চলতে প্রস্তুত। মঙ্গলবার সাংবাদিকরা যখন ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন যে রাশিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে কি না, তখন তিনি বলেন: “এ বিষয়ে আমি আপনাদের পরে জানাব।” বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করেছে, অথচ স্থলযুদ্ধের ফ্রন্টলাইন বা সম্মুখসারির অবস্থানে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি।
মন্তব্য করুন